ছবি: বাংলাদেশ কাগজ
কাশিয়ানী উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দকৃত ‘বীর নিবাস’ নির্মাণকাজ স্থগিত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়ায় সাক্ষী নিশ্চিত করার কথা বলে এক মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। পরে চূড়ান্ত তালিকায় নাম না থাকায় উপজেলা প্রশাসন নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থগিত হওয়া ঘরটি বরাদ্দ পেয়েছিলেন রাতইল ইউনিয়নের দক্ষিণ চরভাটপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. তবিবর রহমান। গত অর্থবছরে উপজেলার জন্য বরাদ্দ পাওয়া ঘরগুলোর মধ্যে তাঁর ঘরটির ইটের গাঁথুনির কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছিল। তবিবর রহমান অভিযোগ করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই–বাছাই কার্যক্রম শুরু হলে তিনজন সাক্ষীর জবানবন্দি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন তিনি। এ সময় কাশিয়ানী সমাজসেবা কার্যালয়ে কর্মরত ইউনিয়ন সমাজকর্মী মো. রাকিব তাঁর কাছে সাক্ষী নিশ্চিত করার কথা বলে নগদ ৩০ হাজার টাকা নেন। তিনি বলেন, “আমি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। আমাকে বলা হয়েছিল, সাক্ষ্যপ্রমাণ ঠিকভাবে উপস্থাপন করলে কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু পরে দেখি চূড়ান্ত তালিকায় আমার নাম নেই। এরপর ইউএনও সাহেব বীর নিবাসের কাজ বন্ধ করে দেন। এখন কাজও বন্ধ, টাকাও ফেরত পাচ্ছি না।” অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সমাজকর্মী মো. রাকিব টাকার বিষয়টি স্বীকার করলেও অভিযোগের দায় নিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে পরে বিস্তারিত কথা বলবেন। এদিকে নির্মাণকাজ স্থগিত থাকায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন ঠিকাদার। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান অথেনটিক ট্রেড লিংয়ের স্বত্বাধিকারী মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “নির্মাণাধীন অবস্থায় কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কাজের অগ্রগতি অনুযায়ী বিলও পাচ্ছি না। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।” তিনি বিষয়টি লিখিতভাবে উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছেন বলে জানান। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শেখ বজলুর রশিদ বলেন, অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বা অর্থ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের দাবি, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার নিশ্চিত করতেই তালিকা চূড়ান্ত করার আগে পুনঃযাচাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করতে হলে এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি।